রবীন্দ্র জীবনে মৃত্যু : পর্ব ১ (প্রস্তাবনা)

এখন শ্রাবণ মাস । শ্রাবণ যেমন একদিকে বর্ষার ঋতু, তপের তাপের বাঁধন কেটে আমাদের নবধারাজলে স্নান করে স্নিগ্ধ হওয়ার ঋতু, ঠিক তেমনই অন্যদিকে এই শ্রাবণ আমাদের বিরহের মাস – বা বলা ভাল চিরবিরহের। কারণ এই মাসেরই এক বাইশ তারিখে আমাদের রবি চিরকালের মত হারিয়ে গিয়েছিলেন এক ঘন কালো মেঘের আড়ালে । আমরা হারিয়েছিলাম রবীন্দ্রনাথকে । প্রতিবছর তাই শ্রাবণ এলেই আমাদের মনে পড়ে যায় অমোঘ সেই বাইশে শ্রাবণের কথা। কিন্তু ভাবতে গিয়ে অবাক লাগে, যখন দেখি – যাঁকে নিয়ে আমাদের এই বেদনা, তাঁর নিজের জীবনেই বারেবারে কিভাবে মৃত্যু এসে দাঁড়িয়েছে একেবারে দোরগোড়ায়, ছিনিয়ে নিয়ে গেছে – একের পর এক অত্যন্ত কাছের মানুষদের । তাঁদের মধ্যে অনেকেই বয়সে তাঁর থেকে অনেক ছোট, যাবার বয়স তাঁদের অনেকেরই হয়নি – তবু তাদের বিদায় দিতে হয়েছে বারবার। মৃত্যুর এই দুঃসহ আঘাত তিনি দিনের পর দিন বুক পেতে নিয়েছেন, হয়ত হৃদয় তাঁর জর্জরিত হয়েছে – তবু তিনি রয়ে গেছেন স্থিতধী, অচঞ্চল। লেখনী তাঁর কখনও বন্ধ হয়নি, মন কখনও কোন দুঃখের কাছে আত্মসমর্পণ করেনি। বরং বার বার সেই মৃত্যুকে স্বীকার করেই তিনি তাকে অতিক্রম করতে চেয়েছেন। স্পষ্ট ভাষায় লিখতে পেরেছেন –

“ দূর হতে ভেবেছিনু মনে
দুর্জয় নির্দয় তুমি , কাঁপে পৃথ্বী তোমার শাসনে ।
তুমি বিভীষিকা ,
দুঃখীর বিদীর্ণ বক্ষে জ্বলে তব লেলিহান শিখা ।
দক্ষিণ হাতের শেল উঠেছে ঝড়ের মেঘ-পানে ,
সেথা হতে বজ্র টেনে আনে ।
ভয়ে ভয়ে এসেছিনু দুরুদুরু বুকে
তোমার সম্মুখে
তোমার ভ্রূকুটিভঙ্গে তরঙ্গিল আসন্ন উৎপাত —
নামিল আঘাত ।
পাঁজর উঠিল কেঁপে ,
বক্ষে হাত চেপে
শুধালেম , ‘ আরো কিছু আছে নাকি ,
আছে বাকি
শেষ বজ্রপাত ?’
নামিল আঘাত ।
এইমাত্র ? আর কিছু নয় ?
ভেঙে গেল ভয় ।
যখন উদ্যত ছিল তোমার অশনি
তোমারে আমার চেয়ে বড়ো ব ‘ লে নিয়েছিনু গনি ।
তোমার আঘাত-সাথে নেমে এলে তুমি
যেথা মোর আপনার ভূমি ।
ছোটো হয়ে গেছ আজ ।
আমার টুটিল সব লাজ ।
যত বড়ো হও ,
তুমি তো মৃত্যুর চেয়ে বড়ো নও ।
আমি মৃত্যু-চেয়ে বড়ো এই শেষ কথা বলে
যাব আমি চলে ।

আমার এবারের ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা তার জীবনে বার বার এই মৃত্যুর মিছিলকে নিয়েই। পুরো শ্রাবণ নাস জুড়েই আমরা দেখব – কিভাবে তিনি পেরিয়ে এসেছেন একেকটি প্রিয়জনের চিরবিচ্ছেদের যন্ত্রণা । তালিকাটি তথ্য নির্ভর, বিভিন্ন সূত্র থেকে সংগৃহীত, তবে হয়তো সম্পূর্ণও নয় – এমনকি কোথাও কোন তথ্যের সামান্য ( এবং অবশ্যই অনিচ্ছাকৃত ) ত্রুটি থাকাও অসম্ভব নয়। তবু এই শ্রাবণ মাসে, তাঁর চলে যাওয়ার মাসে, তাঁর জীবনকে ঘিরেই মৃত্যুর লীলা কিভাবে আবর্তিত হয়েছে – সেটা নিয়েই এই ক্ষুদ্র আলোকপাতের প্রয়াস – যা কিছুদিন ধরে ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশের চেষ্টা করব।

সুএ: নেট থেকে

কবির নাম জানা নেই তাই দেয়া গেল না

https://www.facebook.com/groups/rntfc/