রবীন্দ্র জীবনে মৃত্যু : পর্ব ৮ (বলেন্দ্রনাথ ঠাকুর) (১৮৯৯)

আগের পর্বে বলেছি রবীন্দ্রনাথের ভাইঝি অভিজ্ঞার প্রয়াণের কথা, এই বারে আসবে তাঁর আর এক ভ্রাতুষ্পুত্র বলেন্দ্রনাথের চলে যাওয়ার কথা।

বলেন্দ্রনাথ ছিলেন রবীন্দ্রনাথের ন’দাদা বীরেন্দ্রনাথের পুত্র – জন্ম ১৮৭০। বেশ অল্প বয়সেই তাঁর সাহিত্য সাধনা শুরু হয় ঠাকুর বাড়ীরই প্রকাশিত আর জ্ঞানেন্দ্রনন্দিনী দেবী সম্পাদিত “ বালক “ পত্রিকা দিয়ে। তারপর ধীরে ধীরে তার লেখার পরিসর বাড়ে, লিখতে শুরু করেন – সাধনা, ভারতী – এসব পত্রিকাতেও। কিছু ব্রহ্ম সঙ্গীতও তিনি লেখেন । কিন্তু এইসব লেখালেখির সাথে সাথে তাঁর বৈষয়িক বুদ্ধিরও প্রকাশ ঘটে, জার জন্যে বিভিন্ন সময়ে তিনি রবীন্দ্রনাথের সঙ্গী হন – শিলাইদহ আর উড়িষ্যায় ঠাকুর পরিবারের জমিদারী দেখাশোনার কাজে। শিলাইদহে যখন থাকতেন মৃণালিনী দেবী, তখন বলেন্দ্রনাথ – সংস্কৃত, ইংরেজি, বাংলা, যখন যে বই পড়তেন কাকিমাকেও পড়ে শোনাতেন। সেই সুত্র ধরেই পরে পত্তন করেন কুষ্ঠিয়ার “ টেগোর এন্ড কোং “ – সত্যেন্দ্রনাথের পুত্র সুরেন্দ্রনাথকে সঙ্গে নিয়ে। পরে সেই ব্যবসায় রবীন্দ্রনাথ নিজেও যোগ দেন। যদিও বলেন্দ্রনাথের মৃত্যুর পর নানা ব্যর্থতার মধ্যে একসময় সে ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায় ।

বলেন্দ্রনাথের বিবাহ হয় – বাংলা ১৩০২ ( ইংরাজি ১৮৯৫ )সালে সুশীতলা বা সাহানা দেবীর সঙ্গে। সেই বিবাহের দিনে রবীন্দ্রনাথ লেখেন – চিত্রার উৎসব কবিতাটি । আবার “ নদী “ গ্রন্থটিও উৎসর্গ করেন তাঁকে। ঐ কবিতাটির তারিখ আর ‘ নদী ‘র উৎসর্গ পত্রের তারিখ থেকেই আমরা পাই বলেন্দ্রের বিয়ের তারিখ – ২২শে মাঘ, ১৩০২। কিন্তু স্নেহের বা প্রায় বন্ধুসম এই ভাইপোটিও ( রবীন্দ্রনাথের চাইতে তিনি মাত্র ন’বছরের ছোট ছিলেন ) অকালে বিদায় নেন ক্ষয় রোগে, বিবাহের মাত্র চার বছরের মধ্যে, অপুত্রক অবস্থায় – ১৮৯৯ সালের ২২শে আগস্ট। তার যন্ত্রণা চোখে দেখতে না পেরে বারবার বাইরে গিয়ে বসছেন মা প্রফুল্লময়ী। তাঁর মৃত্যু মুহূর্তের বর্ণনা মেলে অনেক পরে সেই প্রফুল্লময়ীরই লেখায় – “ যেদিন সে জন্মের মত আমাকে তাহার বন্ধন হইতে মুক্ত করিয়া চলিয়া গেল, সেই দিন রবি ( আমার ছোট দেওর ) আসিয়া আমাকে বলিলেন – তুমি একবার তার কাছে যাও, সে তোমাকে মা মা করিয়া ডাকিতেছে। … রবির কথা শুনিয়া যখন তাহার কাছে গিয়া তাহার পাশে বসিলাম, তখন সব শেষ হইয়া আসিয়াছে। মনে হইল আমাকে দেখিয়া চিনিতে পারিল, তাহার পর একবার বমি করিয়া সব শেষ হইয়া যাইল । তখন ভোর হইয়াছে। সূর্যদেব ধীরে ধীরে কিরণচ্ছটায় পৃথিবীকে সজীব করিয়া তুলিতেছিলেন, ঠিক সেই সময় তাহার জীবনদীপ নিভিয়া গেল।“

সুএ: নেট থেকে

কবির নাম জানা নেই তাই দেয়া গেল না

https://www.facebook.com/groups/rntfc/