রবীন্দ্র জীবনে মৃত্যু : পর্ব ৯ (নীতীন্দ্রনাথ ঠাকুর) (১৯০১)

রবীন্দ্রনাথের জীবনে দাদা, ভাইপো, ভাইঝি – এঁদের মৃত্যুর মিছিল চলছেই। এবারে সেই মিছিলে যুক্ত হল আর একটি নাম – নীতীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
নীতীন্দ্রনাথ ছিলেন দেবেব্দ্রনাথের জ্যেষ্ঠ পুত্র, রবীন্দ্রনাথের বড় দাদা দ্বিজেন্দ্রনাথ ঠাকুরের সন্তান, রবীন্দ্রনাথের আর এক আদরের ভ্রাতুষ্পুত্র। জন্ম – ডিসেম্বর ১৮৬৭, অর্থাৎ রবীন্দ্রনাথের চাইতে প্রায় সাড়ে ছয় বছরের ছোট । তাঁর আগ্রহের বিষয় ছিল – গৃহসজ্জা বা এখন আমরা যাকে বলি – Interior Decoration. ঠাকুর বাড়ীর সেই গৃহ সজ্জার পরিকল্পনাকার হিসেবে জোড়াসাঁকোর বিচিত্রা ভবনের পরিকল্পনার দায়িত্বে ছিলেন। এমনকি, শিলাইদহের বর্তমান কুঠি বাড়ীতেও তাঁর পরিকল্পনার ভুমিকা ছিল। ১৮৯৩ সালের ডিসেম্বরে লেডী ল্যান্সডাউন জোড়াসাঁকো বাড়ীতে এসেছিলেন, তাঁর সম্মানে সেবার অভিনীত হয়েছিল – বাল্মীকি প্রতিভা। সেই মঞ্চকে অত্যন্ত আধুনিক ভাবে তৈরি করার জন্য ডাক পড়েছিল এই নীতীন্দ্রনাথের। নানা রকমের ন্যাচারাল এফেক্ট দিয়ে সফল ভাবে সে মঞ্চ তিনি নির্মাণ করে দিয়েছিলেন।

১৮৯৭ সালে রবীন্দ্রনাথ যখন সপরিবারে শিলাইদহে বাস করছিলেন, সে সময় নীতীন্দ্রনাথও তাঁদের সঙ্গে ছিলেন। মৃণালিনী দেবী অত্যন্ত স্নেহ করতেন তাঁকে । ১৯০০ সালের মাঝামাঝি নীতীন্দ্রনাথ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন সিরোসিস অফ লিভারে। তাঁর অসুস্থতার সময় বেশ কয়েক রাত নীতীন্দ্রর বিছানার পাশে রবীন্দ্রনাথ রাত জেগেছিলেন। বন্ধুবর জগদীশ বসুকে তখন এক চিঠিতে তিনি জানাচ্ছেন – “ আমার একটি ভ্রাতুষ্পুত্র সাঙ্ঘাতিক পীড়ায় আক্রান্ত বলিয়া আমি কলকাতায় আসিয়াছি । প্রায় আট রাত্রি ঘুমাইতে অবসর পাই নাই “ । উৎসর্গে একটি কবিতা আছে – “ রোগীর শিয়রে রাত্রে ছিনু একা জাগি ´- এ কবিতায় হয়ত তারই আভাষ । “ অল্প লইয়া থাকি তাই “ গানটির মধ্যেও কেউ কেউ নীতীন্দ্রনাথের অসুস্থতার প্রেক্ষিত খুজে পান। ১৯০১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে ( সম্ভবত ১২ তারিখে ) মাত্র ৩৪ বছর বয়সে প্রয়াত হন নীতীন্দ্রনাথ। তাঁর শুশ্রূষার সমস্ত ভারই নিয়েছিলেন রবীন্দ্রনাথ। ইন্দিরা দেবী পরে লিখেছিলেন তাঁর “ পারিবারিক স্মৃতিতে “ – নীতুদাদার শেষ অসুখ প্রায় কাকীমার শেষ অসুখেরই সমসাময়িক ছিল আর রবিকাকার লাল বাড়ীতে থেকে তিনি তাঁদেরই তত্ত্বাবধানে ছিলেন। …শেষ মুহূর্তে তিনি “ কে জানিত তুমি ডাকিবে আমারে ছিলাম নিদ্রামগন “ এই কীর্তনাঙ্গ গানটি শুনতে চেয়েছিলেন মনে করলে কষ্ট হয়। “

সুএ: নেট থেকে

কবির নাম জানা নেই তাই দেয়া গেল না

https://www.facebook.com/groups/rntfc/

Leave a Reply