অন্ধকারে বসি।আলোয় যাওয়ার আগে : Mithu Chaudhuri

অন্ধকারে বসি।আলোয় যাওয়ার আগে
বিকেলের পূরবী মুছেছে। অস্তরাগ ভুলেছে অভিমান।
সোনালী জল কালো হচ্ছে ক্রমশ। বাঁশের আগায় ঝোলা
পাখির শরীর বাতাসের দোল সইছে অবহেলায়। বারুদের গন্ধ
মুছে গেছে। কাশের ঘন ঝোপ থেকে শরতের স্পষ্ট ঘ্রাণ
স্মৃতির পাতা ওল্টায়।
এ সময় উৎসব জরুরি। সমস্ত নেশাই কোনো না কোনো ভাবে
শুল্ক এনে দেয়। রাজেশ্বরীর বাগানে গাঁদা, সন্ধ্যামণি, দোপাটির
পাপড়ি ফোটে। অঞ্জলি দিতে গেলে বাবার মুখ মনে পড়ে।
চলে যাওয়া মনে পড়ে। ‘ওরে ভোঁদড় ফিরে চা’ আর ফিরে চায় না।
ওদের সাত সমুদ্রের কারবার। তেরো নদীর উজান ঠেলা। পুরোনো
কিছু সুর ভাসে তরঙ্গে। সুরটুকু রয়ে যায়। বাকি দু’ আনা ওই
সুতো টানার খেলা।
রাত গভীর। ঘুম আসে না। সুখ, দুঃখ, হিসেব-নিকেশ, বোধ-অজ্ঞান
বারোয়ারী ওমে তোলপাড়। কাল মহালয়া। টলমলে স্মৃতির নৌকো।
পিতৃপুরুষের ঋণ স্বীকার। শিউলির খোঁজ। নতুন কাপড়ের উসখুস।
উৎসব জরুরি। সব নেশাই আদান-প্রদান জানে। কাল শরতের রোদ
উঠবে। আশা হয় মেঘ কেটে যাবে। আলোয় যাওয়ার আগে
আজ অন্ধকারে বসি।

webdesigner