এক দরিদ্র কাঠুরে : Kalyan Mitra

এক দরিদ্র কাঠুরে নদীর ওপর ঝুঁকে পড়া একটা গাছের ডাল কাটছিল।অন্যমনস্কতাবশত তার হাতের কুড়ালটী পড়লো গভীর জলে।জীবনধারণের একমাত্র অবলম্বন হারিয়ে সে নদীর ধারে বসে হাউহাউ করে কাঁদতে লাগলো।জলদেবতার দয়া হলো।তিনি এলেন কাঠুরের সামনে।জানতে চাইলেন তার বিলাপের কারণ।সব কথা শুনে তিনি জলে ডুব দিয়ে একখানা সোনার কুড়াল তুলে আনলেন…বললেন..নাও তোমার কুড়াল।কাঠুরে বললো…আমি সামান্য গরিব কাঠুরে..এই সোনার কুড়াল আমার নয়।তারপর দেবতা তুলে আনলেন রূপোর কুড়াল।কাঠুরে বললো…এটাও আমার নয়।এবারে দেবতা তুলে আনলেন কাঠুরের আসল লোহার কুড়ালটা।কাঠুরে এবার আহ্লাদে আটখানা হয়ে বললো…এইটাই আমার এইটাই আমার।
দেবতা ওর সততায় মুগ্ধ হয়ে ওর হাতে তিনখানা কুড়াল-ই তুলে দিলেন।

ওই গ্রামেরই আর এক কাঠুরে তার বউয়ের বায়নায় বায়নায় অতিষ্ঠ হয়ে এক ফন্দি আঁটলো।বউকে ভুলিয়েভালিয়ে নিয়ে গেল সেই নদীর ধারে।তারপর এক ধাক্কা দিয়ে বউকে ফেলে দিলো জলে।তারপর ঘটনাটাকে দুর্ঘটনা হিসেবে প্রচার করতে নদীর ধারে পাগলের মতো ছোটাছুটি করতে করতে কপাল চাপড়ে কাঁদতে লাগলো।ওর কান্না সবার আগে শুনতে পেলেন জলদেবতা।তিনি ওর সামনে এসে ওর কান্নার কারণ জিজ্ঞেস করলেন।ও দুর্ঘটনার বিষয়টি বেশ সাজিয়েগুছিয়ে বললো।জলদেবতা জলে ডুব দিয়ে তুলে আনলেন হেমা মালিনীকে।জিজ্ঞেস করলেন…এটাই কি তোমার ডুবে যাওয়া বঊ?
কাঠুরে সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠলো..হ্যাঁ হ্যাঁ প্রভু এইই আমার বঊ।
দেবতা তার মিথ্যাভাষণে রেগে অগ্নিশর্মা হলেন।
কাঠুরে তখন বললো…কি করবো প্রভু।আমি অনেকদিন আগে ঘটে যাওয়া একটা কাহিনি শুনেছিলাম।আমার মনে হলো এবার দ্বিতীয় দফায় আপনি শ্রীদেবীকে তুলে আনবেন।আর শেষে তুলবেন আমার নিজের বউকে।আর সবশেষে ওদের তিনজনকেই আমার ঘাড়ে চাপিয়ে দেবেন।এক বউয়েই আমার দফারফা করে দিচ্ছিলো..এবার তিন তিন বউ নিয়ে আমি তো পাগল হয়ে যেতাম।
দেবতা বললেন…পাগল হবি কি !এবার জেল গিয়ে ঘানি টানবি বউকে খুনের ষড়যন্ত্রের অপরাধে।তোর বউকে আমি অনেকক্ষণ আগে থানায় পাঠিয়ে দিয়েছি।সে এখন তোর নামে বধুহত্যার কেশের এফ আই আর লেখাচ্ছে।

webdesigner