কাজ শেষে সাজ

সকালে অফিস। বিকেলে অনুষ্ঠানে নিমন্ত্রণ। কাজের চাপে দিন শেষে চোখেমুখে ক্লান্তি। কী করবেন বুঝে উঠতে পারেন না অনেকেই। তাই বলে কি নিমন্ত্রণে যাওয়া বাদ দিয়ে দেবেন? কিন্তু এমন চেহারা নিয়ে যাবেনই বা কী করে। এমন সমস্যার সমাধান দিয়েছেন হারমনি স্পার রূপ বিশেষজ্ঞ রাহিমা সুলতানা। তিনি বলেন, কর্মজীবীদের প্রায়ই এমন সমস্যায় পড়তে হয়। অফিসের কোনো অনুষ্ঠান বা পারিবারিক নিমন্ত্রণ লেগেই থাকে। পরিপাটি সাজ না থাকায় এমন অনুষ্ঠানে যেতে আপত্তিও থাকে কারও কারও। ক্যাজুয়ালভাবেও তো যাওয়া যায় না। সে ক্ষেত্রে প্রথমে বুঝতে হবে, কী ধরনের অনুষ্ঠান। আর নিজের সম্পর্কে থাকতে হবে স্বচ্ছ ধারণা। কোন ধরনের পোশাক পরলে মানাবে, কোন ধরনের মেকআপ আপনার ত্বকের উপযোগী—সেটি বুঝে নিন। বিকেলে নিমন্ত্রণের জন্য তো সকালে সাজসজ্জা করে অফিসে যাওয়া যায় না। আবার পার্টিতে যাবার আগে সাজবেন বলে সারা দিন পরিপাটি থাকবেন না, সেটিও মেনে নেওয়া যায় না। সে জন্য সকাল থেকেই আপনাকে এক ধরনের প্রস্তুতি নিতে হবে। তবে খুব ভারী বা জমকালো মেকআপ হলে চেহারায় এক ধরনের কৃত্রিমতা চলে আসে। সকাল বা সন্ধ্যা সময়টা যখনই হোক না কেন, ন্যাচারাল মেকআপ সব পরিবেশে মানানসই।
আপনার প্রয়োজনীয় সাজের সামগ্রী যেমন—কাজল, আইলাইনার, মাশকারা, আইশ্যাডো, লিপস্টিক, লিপলাইনার, লিপগ্লস, কনসিলার, ব্লাশন, ব্রোঞ্জার ও ফাউন্ডেশন সঙ্গে রাখতে হবে। এসব রাখার জন্য আলাদা ব্যাগ বা পাউচ পাওয়া যায়। বড় ব্যাগের মধ্যে একটি সব সময় রেখে দেবেন। তাহলে আপনাকে বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হবে না। এ ছাড়া সুগন্ধি, আয়না ও চিরুনি রাখতে ভুলবেন না। এমন ধরনের পোশাক বেছে নিন, যা আরামদায়ক। কেননা সারা দিন অফিসে এই পোশাক পরেই কাটাতে হবে। যাঁরা সালোয়ার-কামিজ পরেন, কোনো অনুষ্ঠান থাকলে শাড়ি পরতে পারেন। জামদানি, শিফন অথবা মসলিন বেছে নিতে পারেন। সকালে ঘুম থেকে উঠে গোসল করে নিন। এতে আপনার শরীর ও মন দুই-ই সতেজ থাকবে। সারা শরীরে ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করুন। সানস্ক্রিন বা কনসিলার ভালোভাবে মুখে মাখিয়ে নিন। এরপর হালকা করে একটু প্রেসড পাউডার ব্যবহার করুন। চোখের ওপরে ধূসর বা বাদামি অর্থাৎ হালকা রঙের আইশ্যাডো ব্যবহার করতে হবে। আর কাজল চোখের বাইরে না লাগিয়ে ভেতর দিয়ে লাগালে ছড়িয়ে পড়বে না। হালকা কোনো লিপগ্লস বা লিপস্টিক ব্যবহার করুন ঠোঁটে। যেহেতু এখন গরম পড়েছে, তাই ম্যাট ধরনের লিপস্টিক ব্যবহার করা ভালো। এভাবে বেরিয়ে পড়ুন অফিসের উদ্দেশে।
কর্মব্যস্ত দিনের শেষে নিজেকে আবার একটু গুছিয়ে নিন। ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ পরিষ্কার না করে ফেসিয়াল ওয়াইপস দিয়ে মুখ মুছে নিন। পানি দিয়ে মুখ পরিষ্কার করলে সকালের পুরো মেকআপ তুলতে হবে, যা সময়সাপেক্ষ। তাই ওয়েট টিস্যু বা ফেসিয়াল ওয়াইপস ব্যবহার করুন। এরপর নিজের ত্বকের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে কনসিলার বা ফাউন্ডেশন ব্যবহার করুন। পোশাকের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে অথবা কালো ও নীল আইশ্যাডো মিশিয়ে স্মোকি করতে পারেন চোখের সাজটা। চোখের নিচের পাতার বাইরে দিয়ে গাঢ় করে কাজল আঁকতে হবে। ওপরের পাতায় আইলাইনার আর মাশকারা দিয়ে নিন। ঠোঁটে গাঢ় বা হালকা রঙের লিপস্টিকের ওপরে শাইনি লিপগ্লস ব্যবহার করুন। এ ক্ষেত্রে লিপলাইনার দিয়ে ঠোঁট আগে এঁকে নিতে হবে। তাহলে লিপস্টিক ছড়িয়ে পড়বে না। রাতের অনুষ্ঠানের জন্য একটু গাঢ় রঙের ব্লাশন ব্যবহার করা যেতে পারে। এরপর সারা মুখে ও চিবুকে সামান্য পরিমাণে ব্রোঞ্জার ব্যবহার করুন। এতে আপনার চেহারার ক্লান্তি ঢেকে উজ্জ্বলতা ফুটে উঠবে।
এবার আসা যাক চুলের সাজে। চুল ছেড়ে দিতে পারেন। এলোমেলো হয়ে থাকলে হালকা পানি দিয়ে চুলটাকে সেট করে নিন। খোঁপাও করতে পারেন। সবশেষে প্রিয় সুগন্ধির ছোঁয়া নিয়ে বেরিয়ে পড়ুন।

সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো, ফেব্রুয়ারি ২২, ২০১১

webdesigner